লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আইনি সহায়তায় অগ্রণী পশ্চিমবঙ্গ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেসভারতে যে সব সংগঠন গরিব ও অসহায় মানুষদের জন্য আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করে, তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য পশ্চিমবঙ্গ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস (এলএএসডবলুইবি)। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৮০ সালে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, কর্মরত ব্যবহারজীবী, সমাজকর্মীরা এর সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এই সংস্থার কাজ হল নিখরচায় অসহায় মানুষদের আইনি সাহায্য করা, মামলা চালানো এবং আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা। ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৮০-তে কলকাতায় আয়োজিত বুদ্ধিজীবীদের একটি সম্মেলনে স্থির হয়, সমাজের ভঙ্গুর ও গরিব মানুষের দিকে আইনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সেই লক্ষ্যেই এই বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির সৃষ্টি। গোড়ায় বিকৃত মস্তিষ্ক নিরপরাধ জেলবন্দিদের ছাড়ানো, বন্দির অধিকার ও বন্দিত্বকালীন অবস্থায় নিখরচায় বিচার পাওয়ার অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন হাইকোর্টের বিচারপতিরা ও জেলা আদালতে কর্মরত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক, প্রশাসনিক কর্তা এবং পুলিশ আধিকারিকরা সব সময় এদের প্রচেষ্টা ও সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচিকে সহায়তা করেছেন। বিশ্ব জুড়ে পরিবর্তন ও পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রের অবস্থা বদলানোর যুগে লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ভুক্তভোগী মানুষের অসন্তোষ মেটানোর জন্য সচেষ্ট এবং আইনি বিষয়ে অসুবিধাগুলি দূর করার ব্যাপারে অগ্রণী। এই সংগঠনের আইনি সহায়তা কেন্দ্র (লিগ্যাল ক্লিনিক), কাউন্সেলিং পাঠক্রম, সমঝোতা আদালত (আপসে মীমাংসা করার জন্য গঠিত আদালত) বিকল্প উপায়ে আইনি সমস্যা সমাধান করার সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এই সংগঠনের পারিবারিক কাউন্সেলিং সেন্টার রয়েছে এবং পারিবারিক বিবাদ মেটানোর জন্য বার্ষিক পাঠক্রমেরও ব্যবস্থা রয়েছে। সম্প্রতি এদের ২১তম পারিবারিক কাউন্সেলিং পাঠক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে যাতে বাংলাদেশ থেকেও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন। এদের একটি পেসমেকার ব্যাঙ্ক রয়েছে এবং প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য উদ্যোগী হয়েছে এরা। দুর্দশাগ্রস্ত অসহায় মহিলাদের স্বল্প মেয়াদে থাকার ব্যবস্থা করার জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের, বাংলাদেশ ও নেপালের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি, আইনি প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং প্রশাসনিক সংস্থাগুলির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এই সংগঠন আগামী দিনে তথ্যের অধিকার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার করছে। লিগ্যাল এইড সার্ভিসেসের কার্যক্রম নিখরচায় আইনি সহায়তা প্রকল্প বিপিএল মাপকাঠির নীচে যাদের মাসিক আয় এমন মানুষজনকে নিখরচায় আইনি পরিষেবা দেয় লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস। অসহায় নারী, তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের ক্ষেত্রে মাসিক আয়ের সীমা সংক্রান্ত মাপকাঠিটি প্রযোজ্য নয়। যাদের আয় বিপিএল মাপকাঠির বেশি তাদের ক্ষেত্রে আইনজীবীদের খরচ মেটানোর জন্য কিছু অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। লিগ্যাল সার্ভিসেসের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। সংস্থার বিভিন্ন আইনি সহায়তা কেন্দ্রে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে অভ্যন্তরীণ কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা করার সুযোগ আছে। দ্বিতীয়ত, আদালতে মামলা চলাকালীন বা আদালতের বাইরে বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে সহায়তা করা হয়। ৫ নম্বর কিরণশঙ্কর রায় রোড, কলকাতা-৭০০০০১-এর মূল দফতরে বা বারাসত, হাবড়া, বহরমপুর, আসানসোল, শিলিগুড়ি, বেহালা শাখায় এই সুযোগ নেওয়া যায়। লিগ্যাল এইড সার্ভিসেসের কেন্দ্রীয় দফতরে যোগাযোগ : ০৩৩-২২৪৮৩৯৮০,২২৪৩৮৩৮১ আবেদনপত্র ডাউনলোড করুন। পারিবারিক কাউন্সেলিং পাঠক্রম গত দু’ দশক ধরে লিগ্যাল এইড সার্ভিসেসের কাজকর্মে এই পাঠক্রম একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা মূলত আইন পেশা থেকে আসেন। বাংলাদেশ থেকে একটি বড় অংশও এই পাঠক্রমে যোগদান করেন। বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নামী চিকিৎসকরা পাঠক্রম তৈরি করেন। পাঠক্রমে থাকে সমাজতত্ত্ব, মনোবিদ্যা, শারীরবিদ্যা আ আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়। এই পাঠক্রমে বিবাহ সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক হিংসা, বোঝাপড়ার বিভিন্ন ধরনের ঘটনা সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়। আইনি সহায়তা কেন্দ্র বিভিন্ন আইনি সহায়তা কেন্দ্র ও শিবির গড়ার উদ্দেশ্য হল সংগঠনের পরিষেবাকে রাজ্যের প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ অঞ্চলে বসবসকারী দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। কর্মরত আইনজীবী, মনস্তত্ত্ববিদ ও সমাজকর্মীরা কলকাতা থেকে এই সব কেন্দ্রে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী মামলাগুলির মীমাংসার ব্যবস্থা করেন। এ ব্যাপারে পঞ্চায়েত ও গোষ্ঠীভিত্তিক সংগঠনগুলির সঙ্গে লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস যোগাযোগ রেখে চলে। কোন কেন্দ্রে কোন মনস্তত্ত্ববিদ বা ও আইনজীবী পাঠানো হবে তা নির্ভর করে কোন ক্ষেত্রে তাঁদের বিশেষ দক্ষতা আছে তার উপর। এটা মাথায় রেখেই এ ব্যাপারে কাগজপত্র তৈরি করা হয়। মামলার অতিরিক্ত চাপে রাজ্য পরিচালিত আইনি সহায়তা ব্যবস্থা ভারাক্রান্ত। তাই আইনি মীমংসা ও তৎপরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রেখে রাজ্যের জেলাগুলিতে ২১টি সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। লোক আদালত লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস বিকল্প উপায়ে সমাজের দুর্বল ও অসহায় অংশের জন্য জরুরি আইনি পরিষেবার ব্যবস্থা করে দিতে চায়। আরবিট্রেশন অ্যান্ড কনসিলিয়েশন অ্যাক্ট ১৯৯৬-এর পার্ট-৩ (সেকশন-৬১-৮৫) অনুযায়ী, বিকল্প বিরোধ মেটানোর ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়। লোক আদালতে বিচারপতি, আইনজীবী, সমাজকর্মীরা এক সঙ্গে বসে সমস্ত ধরনের বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের অসুবিধা ও ঝঞ্ঝাট দূর করতে, বিচার বিভাগের নানা ধরনের দুর্নীতি, বিস্তৃত অব্যবস্থার নিরসনে কলকাতা হাইকোর্টে এবং স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় লোক আদালতের ব্যবস্থা করা হয়। পেস মেকার ব্যাঙ্ক অভাবী মানুষজন বিনা খরচে পেস মেকার পাওয়ার জন্য লিগ্যাল এইড সার্ভিসেসের কাছে আবেদন করতে পারেন। পেস মেকার বসানোর আগে এ ব্যাপারে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রবীণ নাগরিক এবং নিরাশ্রয় মহিলাদের জন্য সংগঠন বেশ কিছু কর্মসূচি নিচ্ছে। বিস্তারিত জানার জন্য ডাউনলোড করুন। সীমান্ত-পার মানবাধিকার কর্মসূচি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের জেলে পচতে থাকা বন্দিদের মুক্তি ও তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করার জন্য বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট ও কাঠমান্ডু স্কুল অফ ল-র সঙ্গে দু’টি মউ সাক্ষর করেছে লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস। দক্ষিণ এশীয় উপমহাদেশে সীমান্ত-পার মানবাধিকারের ব্যাপারে এই দু’টি সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলে লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস। এ ভাবে তিন দেশের নাগরিক সমাজের একাধিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। মানব পাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা আইনি ও প্রশাসনিক উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। হিউম্যান রাইটস ল নেটওয়ার্ক-এর কলকাতা শাখা এ ব্যাপারে সংগঠনের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। যোগাযোগ ৫, কিরণশঙ্কর রায় রোড,কলকতা ৭০০০০১ পশ্চিমবঙ্গ,ভারত ই মেল: laswebwb@rediffmail.com ফোন : ৯১-৩৩-২২৪৮৩৯৮০ টেলিফ্যাক্স: ৯১-৩৩-২২৪৩৮৩৮১ সাধারণ যোগাযোগ: বিচারপতি ডি কে বাসু চেয়ারম্যান, পশ্চিমবঙ্গ লিগ্যাল এইড সার্ভিস এবং ন্যাশানাল কমিটি ফর লিগাল এইড সার্ভিস, ভারত ই মেল: jusdkbasu@gmail.com লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত বিষয়ঃ অ্যাডভোকেট গীতানাথ গাঙ্গুলি এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যন ই মেল: lasweb_wb@rediffmail.com পারিবারিক বিরোধ সমাধান সংক্রান্ত পাঠক্রমঃ বিচরপতি মলয় সেনগুপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান ই মেল: lasweb_wb@rediffmail.com অনুষ্ঠান ও গবেষণা: ডাঃ সত্যজিৎ দাশগুপ্ত ডিরেক্টর ই মেল: satyadg085@gmail.com