অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

কী ভাবে চিনবেন রোগ, ডাক্তাররাই ছাত্র পাঠশালায়

কী ভাবে চিনবেন রোগ, ডাক্তাররাই ছাত্র পাঠশালায়

হাসপাতালে এসেছেন বুকে ব্যথায় কাতর রোগী। তাঁর উপসর্গ দেখে কী ভাবে বোঝা যাবে, তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে না ব্যথাটা আসলে উঠেছে গ্যাস থেকে?রোগীর কোন উপসর্গ দেখেই বা বুঝবেন, তাঁর শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে? নাকি, তাঁর লিউকিমিয়া? প্রশ্নকর্তা দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। ছাত্র আসনে? চিকিত্সকরাই। কনটিনিউইং মেডিক্যাল এডুকেশন বাধ্যতামূলক না-হলেও, শহরের দুই প্রান্তে হৃদরোগ আর রক্তের নানা অসুখ সম্পর্কে নিজেদের উদ্যোগেই ক্লাসরুমে বসে আধুনিক চিকিত্সার পাঠ নিলেন শহরের চিকিত্সকেরা। যার পোশাকি নাম, ‘কার্ডিয়োলজি অ্যান্ড হেমাটোলজি মাস্টার ক্লাস’।

হৃদরোগ তো এখন শুধু অসুখ নয়, বিশেষজ্ঞদের কাছে ‘রেড অ্যালার্ট’ও বটে। বয়সের গণ্ডি না-মেনে যা এখন কড়া নাড়ছে যৌবনের দরজাতেও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) আশঙ্কা, দ্রুত ঠেকানো না-হলে ভারতে খুব শিগগিরই ভয়াবহ আকার নেবে হৃদরোগ। তা ঠেকাতে প্রয়োজন সচেতনতা। শুধু রোগীদের মধ্যেই নয়, চিকিত্সকদের মধ্যেও। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বিকাশ মজুমদারের কথায়, ‘কারও বুকে ব্যথা হলে তিনি তো প্রথমেই কার্ডিয়োলজিস্টের কাছে ছোটেন না। যান তাঁর পাড়ার ডাক্তারের (জেনারেল ফিজিশিয়ান) কাছেই। ফলে সেই চিকিত্সককেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়, রোগীর গ্যাসের ব্যথা হচ্ছে না হার্ট অ্যাটাক।’ ঘটনা হল, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে রোগীর বাঁচা-মরার প্রশ্ন। কারণ, সত্যিই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে ‘গোল্ডেন পিরিয়ড’-এর মধ্যে চিকিত্সা শুরু না-হলে, তা প্রাণঘাতী পর্যন্ত হতে পারে। তাই আধুনিক চিকিত্সাবিজ্ঞানের সঙ্গে নিত্য যোগাযোগ থাকা একান্ত প্রয়োজন এই জেনারেল ফিজিশিয়ানদের। কিন্তু, হাজারো রোগীর চাপে সেটা তো আর সম্ভব নয়! বিদেশ থেকে এসে কলকাতায় কাজ শুরু করার পর এই সমস্যাটাই টের পেয়েছিলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বিকাশ মজুমদার ও অঞ্জন সিওটিয়া। কী করা যায়, ভাবতে ভাবতে মাথায় আসে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার ভাবনা। জন্ম হয়, কার্ডিয়োলজি ‘মাস্টার ক্লাসের’।

রবিবার ছিল সেই মাস্টার ক্লাসেরই সেশন। সাতাশ থেকে সত্তর -- সব মিলিয়ে শ’খানেক চিকিত্সক বসে পাঠ নিলেন দুই বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে। অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম থেকে স্টেবল অ্যানজাইনা বা নিছক উচ্চ রক্তচাপ। রোগীর উদাহরণ ধরে ধরে তাঁর ঠিক চিকিত্সা কেমন হওয়া উচিত, তারই পাঠ নিলেন ডাক্তারবাবুরা।

হেমাটোলজির ক্ষেত্রে অবশ্য স্নাতকোত্তর ছাত্ররাই ‘মাস্টার ক্লাস’-এর সদস্য। রক্তরোগের এই মাস্টার ক্লাসের অন্যতম উদ্যোক্তা, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্যের কথায়, ‘হেমাটোলজি বেশ নতুন সুপার-স্পেশ্যালিটি বিভাগ। না এমবিবিএস, না স্নাতকোত্তরে, কোথাওই কিন্তু বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত পড়ানো হয় না।’ তাই রক্তরোগের চিকিত্সা করতে গিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগতে থাকেন বিশেষজ্ঞরাও। ফল? অনাবশ্যক রেফার এবং রোগ নির্ণয়ে দেরি। তাই রক্তরোগ সম্পর্কে ভাবী বিশেষজ্ঞদের অবগত করতেই এই ‘মাস্টার ক্লাস’-এর আয়োজন। শনি ও রবিবারের ক্লাসে হাজির ছিলেন তিনশোরও বেশি স্নাতকোত্তর পড়ুয়া। পাঠ দিলেন দেশের নামজাদা ৩৫ জন রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ।

সূত্র : এই সময়, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

সর্বশেষ সংশোধন করা : 2/14/2020



© C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
English to Hindi Transliterate